Digital Prescription Tips for Doctors

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন দ্রুত লিখবেন কীভাবে? ডাক্তারদের জন্য ৭টি কাজের টিপস

সন্ধ্যার চেম্বার। বাইরে ২০ জন রোগী বসে আছেন। প্রতিটা প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম, ডোজ, কত দিন খাবেন, পরামর্শ আর টেস্ট লিখতে গিয়ে সময় চলে যায়। হাতে লিখলে হাত ব্যথা করে, আবার পরে নিজের লেখা পড়তেই কষ্ট হয়।

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন এই সমস্যার বড় অংশ মিটিয়ে দিতে পারে। তবে শুধু সফটওয়্যার নিলেই কাজ দ্রুত হয় না। কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই লেখায় সহজ ভাষায় সেই নিয়মগুলো বলছি।

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন আসলে কী?

কাগজে হাতে না লিখে কম্পিউটার বা মোবাইলে প্রেসক্রিপশন তৈরি করাকেই ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন বলে। ওষুধের নাম টাইপ করলে সফটওয়্যার সাজেশন দেয়। আপনি বেছে নেন, ডোজ আর দিন লেখেন, তারপর প্রিন্ট করেন।

ভালো সফটওয়্যারে আরও কিছু থাকে, যেমন সেভ করা টেমপ্লেট, রোগীর আগের তথ্য, চেম্বার অনুযায়ী আলাদা হেডার আর বাংলা ফন্টের সাপোর্ট।

প্রেসক্রিপশন লিখতে সময় কোথায় যায়?

বেশিরভাগ ডাক্তার একই জায়গাগুলোতে সময় হারান:

  • ওষুধের পুরো নাম বা স্ট্রেংথ মনে করতে গিয়ে থেমে যাওয়া
  • একই ধরনের রোগে বারবার একই ওষুধ আর একই উপদেশ লেখা
  • রোগীর জন্য একই পরামর্শ বাংলায় আবার লিখে দেওয়া
  • পরে চেম্বারের স্টাফ বা রোগী লেখা বুঝতে না পারলে আবার ব্যাখ্যা করা

এই চারটা জায়গা ঠিক করলেই প্রতি রোগীতে কয়েক মিনিট বাঁচানো সম্ভব।

প্রেসক্রিপশন দ্রুত লেখার ৭টি কাজের টিপস

১. ওষুধ পুরো টাইপ না করে সার্চ করুন

নাম টাইপ করা শুরু করলেই সাজেশন আসবে, এমন সিস্টেম ব্যবহার করুন। যেমন “Napa” লিখলে Napa, Napa Extend, Napa Extra এই ধরনের অপশন চলে আসে। ব্র্যান্ড, জেনেরিক বা রোগের নাম ধরে খোঁজা যায় এমন ডেটাবেজ থাকলে আরও সুবিধা।

DOCPAD এ ৩০,০০০+ ওষুধের ডেটাবেজ আছে। ব্র্যান্ড, জেনেরিক বা ইন্ডিকেশন ধরে সার্চ করা যায়।

২. ডোজের একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাট ধরে রাখুন

আমাদের দেশে সবচেয়ে চেনা ফরম্যাট হলো সকাল, দুপুর, রাত অনুযায়ী লেখা, যেমন ১+০+১। রোগী আর ফার্মেসির লোক দুজনেই এটা সহজে বোঝেন। প্রতিবার একই ফরম্যাটে লিখলে ভুল কমে।

৩. বারবার লেখা কেসের জন্য টেমপ্লেট বানান

আপনার চেম্বারে নিশ্চয়ই কিছু রোগ বারবার আসে, যেমন সাধারণ জ্বর, গ্যাস্ট্রিক, অ্যালার্জি বা ডায়াবেটিসের ফলোআপ। এগুলোর জন্য একবার করে টেমপ্লেট বানিয়ে রাখুন। পরের বার একটা ক্লিকেই ওষুধ, ডোজ আর উপদেশ চলে আসবে। তারপর শুধু রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বদলে নিন।

একটা কথা মনে রাখবেন। টেমপ্লেট শুধু শুরুর খসড়া। প্রতিটা রোগীর বয়স, ওজন, অন্য রোগ আর অ্যালার্জি দেখে আপনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। টেমপ্লেট দেখে না ভেবে প্রিন্ট দিলে সেটা ঝুঁকির কাজ।

৪. C/C, O/E, D/X এর কাঠামো ঠিক রাখুন

যে ক্রমে আপনি ভাবেন, প্রেসক্রিপশনও সেই ক্রমে সাজান। অভিযোগ (C/C), পরীক্ষা (O/E), ডায়াগনসিস (D/X), তারপর ওষুধ, টেস্ট আর পরামর্শ। এভাবে সাজানো থাকলে লেখার সময় মাথায় আলাদা করে ভাবতে হয় না। পরে ফলোআপে এলে আগের নোট দেখাও সহজ হয়।

৫. অটোসেভ চালু রাখুন

লেখার মাঝখানে ইন্টারনেট চলে গেলে বা ট্যাব বন্ধ হয়ে গেলে সব আবার লিখতে হলে সময় নষ্ট হয়, মেজাজও খারাপ হয়। যে সফটওয়্যারে লেখা নিজে নিজে সেভ হয়, সেটা বেছে নিন।

৬. পরামর্শ বাংলায় লিখুন

রোগী ইংরেজি ওষুধের নাম মনে না রাখতে পারলেও “পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, প্রচুর পানি পান করুন” এই কথাগুলো ঠিকই বুঝবেন। ওষুধের নাম আর ডোজ ইংরেজিতে, আর উপদেশ বাংলায়, এই মিশ্র ফরম্যাট রোগীর জন্য সবচেয়ে কাজের। ফলোআপে আসার হার আর নির্দেশ মানার হারও এতে ভালো হয়, এটা আমরা চেম্বারের অভিজ্ঞতায় প্রায়ই দেখি।

DOCPAD এ বাংলা ও ইংরেজি দুটোই একই প্রেসক্রিপশনে লেখা যায়, বাংলা ফন্ট সাপোর্টও বিল্টইন।

৭. প্রিন্ট লেআউট একবার ঠিক করে নিন

হেডার, নাম, ডিগ্রি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সিগনেচার আর পেজের মাপ একবার সেট করে রাখুন। প্রতিদিন প্রিন্টের আগে এগুলো ঠিক করতে হলে সময় যায়। একবার সেট হলে প্রতিটা প্রিন্ট একই রকম আসবে।

আপনি একাধিক চেম্বারে বসলে প্রতিটার জন্য আলাদা হেডার ও সময়সূচি লাগবে। মাল্টি-চেম্বার সাপোর্ট থাকলে একটা অ্যাকাউন্ট থেকেই সব সামলানো যায়।

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে ডাক্তাররা যে ভুলগুলো করেন

  • টেমপ্লেট না দেখেই প্রিন্ট করা। পুরনো রোগীর টেমপ্লেটে ভুল ডোজ থেকে গেলে সমস্যা হয়। প্রিন্টের আগে একবার চোখ বুলিয়ে নিন।
  • দিনের সংখ্যা বাদ পড়া। ওষুধ কত দিন খাবেন, এটা না থাকলে রোগী নিজের মতো বন্ধ বা চালু রাখেন।
  • অ্যালার্জির তথ্য না দেখা। রোগীর আগের কোনো ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে নোটে লিখে রাখুন।
  • ব্র্যান্ড আর জেনেরিক গুলিয়ে ফেলা। একই জেনেরিকের দুটো ব্র্যান্ড একসাথে লেখা হয়ে গেলে ডাবল ডোজের ঝুঁকি থাকে।
  • ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে না ভাবা। রোগীর তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষিত হয় এমন সফটওয়্যার বেছে নিন।
  • শুধু সাজেশনের ওপর ভরসা করা। সফটওয়্যার আপনাকে গতি দেয়, কিন্তু ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তটা আপনার।

কেমন সফটওয়্যার বেছে নেবেন? ৫টা প্রশ্ন নিজেকে করুন

১. ওষুধের ডেটাবেজ কত বড়, আর বাংলাদেশের ব্র্যান্ড আছে কি?
২. বাংলা ফন্টে প্রিন্ট ঠিকঠাক আসে কি?
৩. টেমপ্লেট আর অটোসেভ আছে কি?
৪. একাধিক চেম্বার একসাথে সামলানো যায় কি?
৫. দাম কত, আর লুকানো খরচ আছে কি?

DOCPAD কীভাবে এই কাজে সাহায্য করে?

DOCPAD বাংলাদেশের ডাক্তারদের জন্য বানানো প্রেসক্রিপশন ও চেম্বার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। এতে যা পাবেন:

  • স্মার্ট Rx এডিটর, যেখানে C/C, O/E, D/X, উপদেশ, টেস্ট সবই আলাদা সেকশনে লেখা যায়
  • ৩০,০০০+ ওষুধের ডেটাবেজ
  • ড্রাগ, ডোজ, ডিউরেশন আর পুরো ট্রিটমেন্টের টেমপ্লেট, সাথে অটোসেভ
  • একাধিক চেম্বার, অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর ফি ট্র্যাকিং
  • বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় প্রিন্ট

প্রাইসিং একদম সরল। একটাই প্ল্যান, DOCPAD Pro, বছরে ৳৮,০০০ (সাধারণ দাম ৳১২,০০০)। মাসে হিসাব করলে প্রায় ৳৬৬৭। আনলিমিটেড প্রেসক্রিপশন, সব ফিচার আর প্রায়োরিটি সাপোর্ট এর মধ্যেই আছে। পেমেন্ট করা যায় bKash দিয়ে।

শুরু করবেন কীভাবে?

প্রথম দিনেই সবকিছু বদলাতে যাবেন না। এভাবে এগোতে পারেন:

১. প্রথম সপ্তাহে শুধু ওষুধ সার্চ আর প্রিন্ট ব্যবহার করুন।
২. দ্বিতীয় সপ্তাহে আপনার সবচেয়ে বেশি আসা ৫টা রোগের টেমপ্লেট বানান।
৩. তৃতীয় সপ্তাহে চেম্বার আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেটআপ করুন।

এভাবে করলে নতুন সিস্টেমে অভ্যস্ত হতে সময় কম লাগে, আর চেম্বারের কাজও থামে না।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কি একজন ডাক্তারের জন্যও কাজের?
হ্যাঁ। একটা চেম্বারে বসা একজন ডাক্তার থেকে শুরু করে একাধিক চেম্বার বা ক্লিনিক, সবার জন্যই কাজে লাগে।

বাংলা পরামর্শ কি প্রিন্টে ঠিকভাবে আসে?
DOCPAD এ বাংলা ফন্ট সাপোর্ট আছে, তাই বাংলা নোট ও ইংরেজি ওষুধের নাম একই প্রেসক্রিপশনে ছাপা যায়।

ওষুধের সাজেশন কি আমার সিদ্ধান্তের বিকল্প?
না। সাজেশন শুধু লেখা দ্রুত করার জন্য। রোগীর অবস্থা বুঝে ওষুধ ঠিক করার দায়িত্ব সব সময় চিকিৎসকের।

একাধিক চেম্বারে বসলে কি আলাদা অ্যাকাউন্ট লাগবে?
না। একটা অ্যাকাউন্টেই যত খুশি চেম্বার যোগ করা যায়, প্রতিটার আলাদা সময়সূচি, ফি আর হেডার সহ।

পরের ধাপ

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনের আসল লাভ হলো প্রতিদিনের ছোট ছোট সময় বাঁচানো। আজই DOCPAD এর ফিচারগুলো দেখে নিন, আর প্রস্তুত হলে সাবস্ক্রাইব করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি কথা বলতে পারেন:

হোয়াটসঅ্যাপ: 01953-385328

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *