হাতে প্রেসক্রিপশন লেখার ৫টি সাধারণ সমস্যা, আর ডাক্তাররা কীভাবে এগুলো এড়াতে পারেন
একজন রোগী চেম্বার থেকে বের হয়ে ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন দেখালেন। দোকানি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, “ভাই, এটা ঠিক বুঝতে পারছি না।” রোগী আবার চেম্বারে ফিরে যাবেন, নাকি আন্দাজে ওষুধ নেবেন, সেটা তখন তাঁর সিদ্ধান্ত।
এই দৃশ্য আমাদের দেশে নতুন না। দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনে ঢাকার ওষুধ বিক্রেতারা বলেছিলেন, তাঁরা প্রায় ২০ শতাংশ প্রেসক্রিপশন বুঝতে না পেরে ফিরিয়ে দেন। সেই সময়েই হাইকোর্ট ডাক্তারদের স্পষ্ট ব্লক অক্ষরে লিখতে বা প্রিন্ট করা প্রেসক্রিপশন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোগীরা অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন নিয়ে অভিযোগ করছেন।
আপনি যদি চেম্বারে বসা ডাক্তার হন, এই লেখা আপনার জন্য। আমরা দেখব হাতে প্রেসক্রিপশন লিখলে কোন ৫টি সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়, প্রতিটা সমস্যা কীভাবে কমানো যায়, আর ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কখন সত্যিই কাজে লাগে।
সমস্যা ১: লেখা পড়া যায় না, আর ভুল ওষুধ বা ভুল ডোজ চলে যায়
এটাই সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা। বাংলাদেশের তিনটি শহরে হাতে লেখা আউটডোর প্রেসক্রিপশন নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছিল (Journal of Applied Pharmaceutical Science, ২০১৬)। সেখানে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ত্রুটিগুলোর একটি ছিল অস্পষ্ট হাতের লেখা, প্রায় ৪৬ শতাংশ। রাজশাহীর একটি হাসপাতালের গবেষণায় ৯৭৮টি ওষুধের মধ্যে ৩৫টির নামই অস্পষ্ট লেখার কারণে বোঝা যায়নি।
শুধু নাম না, সংখ্যাও বিপদ ডাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি গবেষণায় লোরাজেপাম ইনজেকশন ৪ মিলিগ্রাম লেখা ছিল। প্রায় ২০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী সেটা ৪০ মিলিগ্রাম পড়েছেন। ওই গবেষণায় আরেকটা তথ্য আছে। ডাক্তারের লেখা সবচেয়ে কম ঠিকভাবে পড়তে পেরেছেন ফার্মাসিস্টরা, অথচ ওষুধ দেওয়ার কাজটা তাঁদেরই।
আমাদের বাজারে একই রকম দেখতে নামের ওষুধ অনেক। নাপা (প্যারাসিটামল) আর নাপ্রোক্সেন গ্রুপের ওষুধ, যেমন ন্যাপ্রোসিন বা ন্যাপ্রো, তাড়াহুড়োর লেখায় কাছাকাছি দেখায়। কিন্তু ওষুধ দুটো এক না।
কী করা যায়:
- ওষুধের নাম ব্লক অক্ষরে লিখুন। বিশেষ করে যেসব নাম দেখতে মিলে যায়।
- ডোজ লেখার সময় “mg” পুরো লিখুন। দশমিকের আগে শূন্য দিন (০.৫ লিখুন, .৫ না)।
- ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে নাম টাইপ হয়, তাই পড়ার সমস্যাটা প্রায় থাকেই না।
সমস্যা ২: ডোজ, সময় আর কতদিন খেতে হবে, এই তিনটা অসম্পূর্ণ থাকে
“১+০+১” লিখে দিলেন, কিন্তু খাওয়ার আগে না পরে, আর কতদিন, সেটা লেখা হলো না। রোগী তখন নিজের মতো করে ঠিক করে নেন। অনেকে ভালো লাগলে দুই দিনেই ওষুধ বন্ধ করে দেন। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এটা বিশেষ ঝামেলা তৈরি করে।
বাংলাদেশের চারটি বিভাগের ১২০টি প্রেসক্রিপশন নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফার্মেসি থিসিসে দেখা গেছে, ওষুধ খাওয়ার বিশেষ নির্দেশনা না থাকা একটা নিয়মিত ত্রুটি। সঙ্গে ছিল তারিখ না থাকা, রোগীর আগের ইতিহাস না থাকা।
কী করা যায়:
- প্রতিটি ওষুধের পাশে তিনটা জিনিস লিখুন: কত মাত্রা, কখন, কত দিন।
- খাবারের আগে না পরে, সেটা আলাদা করে লিখুন।
- শেষ লাইনে বাংলায় এক-দুই লাইনের পরামর্শ দিন। রোগী যেটা বোঝে, সেটা মানে।
সমস্যা ৩: রোগীর তথ্য, তারিখ আর চেম্বারের তথ্য বাদ পড়ে যায়
ব্যস্ত দিনে রোগীর নাম, বয়স, ওজন আর তারিখ লিখতে ভুলে যাওয়া খুব সহজ। অথচ শিশুদের ওষুধের মাত্রা ওজনের ওপর নির্ভর করে। সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের গবেষণায় হাতে লেখা প্রেসক্রিপশনের ত্রুটির বড় অংশই ছিল রোগীর তথ্য না থাকা। শ্রীলঙ্কার এক সমীক্ষায় অর্ধেকেরও কম প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম ও বয়স পাওয়া গেছে।
তারিখ না থাকলে পরে সমস্যা হয়। রোগী তিন মাস পর পুরনো প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসে বলেন, “এটাই আবার দিন।” আপনি বুঝতেই পারবেন না এটা কবে লেখা।
কী করা যায়:
- ছাপানো প্রেসক্রিপশন প্যাডে রোগীর নাম, বয়স, ওজন আর তারিখের ঘর রাখুন।
- আপনার নাম, BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেম্বারের ঠিকানা আর সময় সবসময় ছাপা থাকুক।
- আপনি একাধিক চেম্বারে বসলে প্রতিটার আলাদা হেডার রাখুন, যেন রোগী ভুল জায়গায় না যায়।
সমস্যা ৪: একই ওষুধ দুইবার লেখা, আর জেনেরিক নাম না থাকা
একই জেনেরিকের ওষুধ কয়েকটা কোম্পানি বানায়। ব্র্যান্ড নাম আলাদা, কিন্তু ভেতরের উপাদান এক। তাড়াহুড়োতে দুটো ব্র্যান্ড একই প্রেসক্রিপশনে চলে গেলে রোগী একই ওষুধ দ্বিগুণ খেয়ে ফেলতে পারেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই থিসিসেও থেরাপিউটিক ডুপ্লিকেশন আর ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশনের কথা ত্রুটির তালিকায় এসেছে।
রাজশাহীর হাসপাতালের গবেষণায় একটি প্রেসক্রিপশনেও জেনেরিক নাম পাওয়া যায়নি। জেনেরিক নাম পাশে থাকলে ফার্মাসিস্ট আর আপনি নিজেও এক নজরে বুঝতে পারেন দুটো ওষুধ আসলে একই কি না।
কী করা যায়:
- প্রেসক্রিপশন শেষ করার আগে ওষুধের তালিকায় একবার জেনেরিক নামগুলো মিলিয়ে নিন।
- রোগী আগে কোন কোন ওষুধ খাচ্ছেন, সেটা জিজ্ঞেস করুন। সেটা না জানলে ডুপ্লিকেশন ধরা কঠিন।
- ডিজিটাল টুল ব্যবহার করলে এমন টুল বেছে নিন, যেখানে ব্র্যান্ডের পাশে জেনেরিক নামও দেখা যায়।
সমস্যা ৫: সময় যায়, আর চাপের মধ্যে ভুলের সুযোগ বাড়ে
চেম্বারে রোগী বসে আছেন বিশজন। আপনাকে শুনতে হচ্ছে, ভাবতে হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে লিখতে হচ্ছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন, রোগীর চাপে ডাক্তারকে দ্রুত লিখতে হয়।
আর বেশিরভাগ রোগেরই কিছু পরিচিত চিকিৎসা-ছক আছে। জ্বর, গ্যাস্ট্রিক, সর্দি-কাশি বা ডায়াবেটিসের ফলো-আপে অনেক সময় একই ওষুধ, একই ডোজ, একই পরামর্শ বারবার লিখতে হয়। এই কাজটা হাতে করতে গেলে সময় যায়, আর ক্লান্ত হলে ভুল বাড়ে।
কী করা যায়:
- নিজের সবচেয়ে বেশি লেখা পাঁচ-ছয়টা চিকিৎসা-ছক আলাদা করে রাখুন।
- ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে টেমপ্লেট বানিয়ে রাখলে এক ক্লিকে সেটা আনা যায়। তবে প্রতিবার রোগীর অবস্থা দেখে বদলে নিতে হবে।
হাতে লেখা বনাম ডিজিটাল: তুলনামূলক গবেষণা কী বলছে
একটি তুলনামূলক গবেষণায় ৩৯৮টি প্রেসক্রিপশন দেখা হয়েছিল। হাতে লেখা প্রেসক্রিপশনে ত্রুটি পাওয়া গেছে প্রায় ৩৫.৭ শতাংশে। ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশনে সেটা ছিল ২.৫ শতাংশ। এটা একটা গবেষণার ফল, সব জায়গায় একই হবে এমন না। তবু দিকটা পরিষ্কার: টাইপ করা প্রেসক্রিপশনে পড়া ও তথ্য বাদ পড়ার ভুল অনেক কমে।
ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনে গেলেও যে ভুলগুলো ডাক্তাররা করেন
সফটওয়্যার ভালো হলেও কিছু ভুল থেকে যায়। আগে থেকে জানা থাকলে এড়ানো সহজ।
- সাজেশন দেখে চোখ বুজে ক্লিক করা। টাইপ করলে ওষুধের তালিকা আসে। কিন্তু নাম কাছাকাছি হলে ভুল ওষুধেও ক্লিক হয়ে যেতে পারে। সেভ করার আগে স্ক্রিনে একবার চোখ বোলান।
- পুরনো টেমপ্লেট না বদলে ব্যবহার করা। টেমপ্লেট সময় বাঁচায়, কিন্তু রোগী আলাদা। ওজন, বয়স, অ্যালার্জি দেখে ডোজ ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন।
- প্রিন্টের আগে হেডার চেক না করা। একাধিক চেম্বারে বসলে ভুল চেম্বারের ঠিকানা ছাপা হয়ে যেতে পারে।
- বাংলা পরামর্শ বাদ দেওয়া। ওষুধের নাম ইংরেজিতে থাকলেও খাওয়ার নিয়ম বাংলায় লিখে দিলে রোগী অনেক বেশি মানেন।
DOCPAD কোথায় কাজে লাগে
DOCPAD বাংলাদেশের ডাক্তারদের জন্য বানানো প্রেসক্রিপশন ও চেম্বার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। ওপরের পাঁচটা সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এর ফিচারগুলো এভাবে কাজে আসে:
- পড়া নিয়ে সমস্যা: সব কিছু টাইপ করা, প্রিন্ট করা প্রেসক্রিপশন। হাতের লেখা বোঝার ঝামেলা থাকে না।
- ডোজ, সময়, মেয়াদ: ওষুধ, ডোজ আর কত দিন, সবই প্রেসক্রিপশনে একই লাইনে থাকে, যেমন “১+০+১, ৭ দিন”। এর সঙ্গে C/C, O/E, D/X, পরামর্শ, পরীক্ষা সবই আলাদা অংশে লেখা যায়।
- রোগীর ও চেম্বারের তথ্য: আপনার হেডার, সই আর পেজ লেআউট একবার ঠিক করে রাখলে প্রতিটা প্রিন্টে একই থাকে। একাধিক চেম্বার থাকলে প্রতিটার আলাদা সময়সূচি ও হেডার রাখা যায়।
- ডুপ্লিকেশন ও জেনেরিক নাম: ৩০,০০০+ ওষুধের ডেটাবেস আছে। ব্র্যান্ড, জেনেরিক বা রোগ ধরে খোঁজা যায়, আর সাজেশনে ব্র্যান্ডের পাশে জেনেরিক নামও দেখা যায়।
- সময় বাঁচানো: ওষুধ, ডোজ, মেয়াদ আর পুরো চিকিৎসার টেমপ্লেট সেভ করা যায়। অটোসেভ থাকায় কাজ হারিয়ে যায় না।
এছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ফি আর পেমেন্টের হিসাবও একই জায়গায় রাখা যায়। বাংলা ফন্টের সাপোর্ট আছে, তাই পরামর্শ বাংলায় লিখে প্রিন্ট করা যায়।
একটা কথা পরিষ্কার বলা ভালো। কোনো সফটওয়্যারই আপনার ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত নেয় না। ওষুধ বাছাই আর ডোজ ঠিক করার দায়িত্ব আপনার, সফটওয়্যার শুধু লেখা পরিষ্কার ও দ্রুত করে।
খরচ কত
প্রাইসিং পেজ অনুযায়ী DOCPAD Pro এখন বছরে ৳৮,০০০ (সাধারণ দাম ৳১২,০০০)। মাসে হিসাব করলে প্রায় ৳৬৬৭। এটা সীমিত সময়ের অফার দেখাচ্ছে, তাই সাইটে একবার দাম দেখে নেবেন। একটাই প্ল্যান, সব ফিচার ভেতরে, আনলিমিটেড প্রেসক্রিপশন। পেমেন্ট করা যায় বিকাশে।
আপনার চেম্বারের জন্য ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কি দরকার? ৬টা প্রশ্নে দেখুন
নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন:
- ফার্মেসি থেকে কি কখনো ফোন আসে যে লেখাটা বোঝা যাচ্ছে না?
- দিনে কি ২০ জনের বেশি রোগী দেখেন?
- একই ওষুধ বা একই পরামর্শ কি দিনে বারবার লিখতে হয়?
- একাধিক চেম্বারে বসেন?
- রোগী কি খাওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রায়ই আবার জিজ্ঞেস করেন?
- আপনার প্রেসক্রিপশন কি দেখতে অগোছালো লাগে?
তিনটা বা তার বেশি প্রশ্নে “হ্যাঁ” হলে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চেষ্টা করার মতো। এক-দুটো “হ্যাঁ” হলে হাতের লেখা ব্লক অক্ষরে করে আর ছাপানো প্যাড ব্যবহার করেই বড় উন্নতি আনা যায়।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কি আইনসম্মত? হাইকোর্ট একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ডাক্তারদের স্পষ্ট হাতের লেখা বা টাইপ করা প্রেসক্রিপশন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রিন্ট করা প্রেসক্রিপশন সেই নির্দেশের সঙ্গে মেলে। তবে নিয়ম বদলাতে পারে, তাই বিএমডিসির সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।
একজন ডাক্তারের জন্য কি DOCPAD চলবে, নাকি শুধু ক্লিনিকের জন্য? DOCPAD-র সাইটে বলা আছে, এটা একক ডাক্তারের একটা চেম্বার থেকে শুরু করে একাধিক চেম্বার ও ডাক্তারের ক্লিনিক পর্যন্ত চলে।
প্রেসক্রিপশনে বাংলা লেখা যাবে? হ্যাঁ। বাংলা ফন্ট সাপোর্ট আছে। ওষুধের নাম ও ডোজ ইংরেজিতে রেখে পরামর্শ বাংলায় লেখা যায়, একই প্রেসক্রিপশনে।
ওষুধের ডেটাবেস কত বড়? ৩০,০০০-এর বেশি ওষুধ আছে। ব্র্যান্ড, জেনেরিক বা রোগ দিয়ে খোঁজা যায়।
একাধিক চেম্বার চালানো যাবে? হ্যাঁ। প্রতিটা চেম্বারের আলাদা সময়সূচি, ফি আর প্রেসক্রিপশন হেডার রাখা যায়, সবই একটা অ্যাকাউন্ট থেকে।
পরের ধাপ
আপনি যদি ঠিক করে ফেলেন যে ডিজিটালে যাবেন, DOCPAD-র ফিচার ও দাম দেখে নিতে পারেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে, যেমন আপনার চেম্বার সেটআপে কী লাগবে বা সাবস্ক্রিপশন কীভাবে নেবেন, সরাসরি জিজ্ঞেস করুন:
- হোয়াটসঅ্যাপ: 01953-385328
- ফোন: 01953-385328
- যোগাযোগ ফর্ম

Leave a Reply