7 Problems Doctors Face When Using Paper Prescriptions

কাগজের প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারদের ৭টি সমস্যা

বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডাক্তার এখনো হাতে লিখে প্রেসক্রিপশন দেন। মেডিকেল কলেজে এভাবেই শিখেছেন, সিনিয়র ডাক্তাররাও এভাবেই লিখতেন, আর এটা কাজও করে, যতক্ষণ না সমস্যা শুরু হয়।

দেখতে কাগজের প্রেসক্রিপশন লেখাটা সহজ মনে হয়। প্যাড নিয়ে ডায়াগনোসিস লিখুন, ওষুধের তালিকা দিন, রোগীর হাতে দিয়ে দিন। কিন্তু ব্যস্ত একটা চেম্বারে এক সপ্তাহ বসলেই সমস্যাগুলো চোখে পড়ে। ফার্মাসিস্ট ফোন করেন কারণ ডোজটা পড়তে পারছেন না। রোগী ফার্মেসিতে পৌঁছানোর আগেই স্লিপটা হারিয়ে ফেলেন। ফলো আপ ভিজিটে পুরনো কাগজের ফাইল খুঁজতে হয়, যদি সেগুলো আদৌ রাখা থাকে।

এগুলো কোনো বিরল দুর্ঘটনা নয়। কাগজের সিস্টেমের মধ্যেই এই সমস্যাগুলো লুকিয়ে আছে। নিচে সাতটি সমস্যার কথা বলা হয়েছে, যেগুলো কাগজে চেম্বার চালানো ডাক্তারদের বারবার সামনে পড়ে, কী কারণে এগুলো হয়, আর ব্যস্ত প্র্যাকটিসের ডাক্তাররা এখন এর বদলে কী করছেন।

১. হাতের লেখা কেউ পড়তে পারে না, কখনো কখনো ডাক্তার নিজেও পারেন না

এটা নিয়ে সবাই রসিকতা করে, কিন্তু যখন কোনো ফার্মাসিস্ট দেখেন “৫ mg” কে “৫০ mg” বলে পড়েন, কারণ ডাক্তার পনেরো রোগীর চাপে তাড়াহুড়ো করে লিখছিলেন, তখন আর হাসির কিছু থাকে না। তাড়াহুড়ো লেখা, সস্তা কলম, পাতলা কাগজ, সন্ধ্যাবেলার কম আলো – সবকিছুই এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ডোজ পড়তে না পারলে ফার্মাসিস্ট সাধারণত দুটো কাজের একটা করেন। হয় চেম্বারে ফোন করেন, যাতে ডাক্তারের রোগী দেখার সময় নষ্ট হয়, নাহলে অনুমান করে ওষুধ দেন। দুটোই বিপদজনক।

২. আগের প্রেসক্রিপশনের কোনো সঠিক রেকর্ড থাকে না

তিন মাস আগে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, এটা জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ রোগী বলবেন “সাদা ট্যাবলেটটা” অথবা “মনে নেই ডাক্তার।” পুরনো প্রেসক্রিপশনের স্লিপ হারিয়ে গেলে ডাক্তারকে আবার শুরু থেকে শুরু করতে হয়। যে প্রশ্নগুলো আগেই করা হয়েছে সেগুলো আবার করতে হয়, কৈ পরীক্ষা আগেই করা হলেও আবার করাতে হয়, আর কখনো কখনো রোগীর শরীরে ইতমধ্যেই যা আছে তার সাথে মিশে যায় না এমন ওষুধও দেওয়া হয়ে যায়।

এক চেম্বার চালানো ডাক্তার হয়তো পরিচিত রোগীদের জন্য এটা স্মৃতি দিয়েই সামলাতে পারেন। কিন্তু যখন সপ্তাহে শত শত রোগী আসে, অথবা একই রোগী বিভিন্ন চেম্বারে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়, তখন স্মৃতির উপর ভরসা করা আর চলে না।

৩. প্রেসক্রিপশন প্যাড শেষ হয়ে যায়, হারিয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়

শোনায় ছোট বিষয়, কিন্তু যখন বৃহস্পতিবার দুপুরে বারোজন রোগী অপেক্ষা করছে অথচ প্যাডটা নেই, তখন বোঝা যায় এটা কতটা বড় সমস্যা। প্যাড শেষ হয়ে যায়, অন্য চেম্বারে ভুলে রেখে আসে, বর্ষার পানিতে ব্যাগে ভিজে যায়, অথবা সরাসরি হারিয়ে যায়। প্যাড ছাড়া ডাক্তারের কিছু করার উপায় থাকে না, কারণ এটা ছাড়া ভিজিট আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার কোনো পথ নেই।

৪. লিখতে সময় লাগে, যা পুরো চেম্বারকে ধীর করে দেয়

প্রতি রোগীর জন্য C/C, O/E, পরীক্ষা, এবং পুরো ওষুধের তালিকা হাতে লিখতে যতটা সময় লাগে সেটা যোগ হয়ে অনেক সময় নিয়ে নেয়। প্রতিদিন তিরিশ-চলেশ জন রোগী দেখা চেম্বারে প্রতি প্রেসক্রিপশনে ১.৫ মিনিট বাড়তি সময়ো দিন শেষে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করে দেয়, যে সময়টা রোগী দেখার পেছনে দেওয়া যেতে পারত।

এই সময়ের বেশিরভাগই ওষুধ বাছাই করার জন্য খরচ হয় না। বেশিরভাগই যায় ব্র্যান্ড নাম, ডোজ, নির্দেশনা লিখতে, যেগুলো প্রায় একই সমস্যার রোগীদের জন্য প্রতিবার উার একই।

৫. পুরানো চিকিৎসার পদ্ধতি খুঁজে দেখার উপায় নেই

একটা সাধারণ সমস্যা গত মাসে কীভাবে চিকিৎসা করেছিলেন তা ডাক্তার জানতে চাইলে কাগজে তা খুঁজে দেখার কোনো উপায় নেই। রোগ অনুযায়ী পুরানো প্রেসক্রিপশন খুঁজে বের করার সুযোগ নেই। যে পদ্ধতিতে কোনো রোগে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল, সেটা ডাক্তারের মাথায়ই থেকে যায়, কোনো রেকর্ডে থাকে না।

যে ডাক্তাররা একাধিক চেম্বার চালান, তাদের জন্য এটা আরও কঠিন, কারণ রোগীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বেশি, আর শুধু স্মৃতির উপর ভরসা করা ঢ়ুঁকিপূর্ণ।

৬. প্রেসক্রিপশন ও রোগীর মধ্যে ভাষাগত দূরত্ব

অনেক রোগী ইংরেজি মেডিকেল শর্টহ্যান্ডের চেয়ে বাংলা পড়তেই বেশি অভ্যস্ত। যে রোগী নিজের প্রেসক্রিপশনটা পুরোপুরি বুঝতে পারেন না, তার ভুল ডোজ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, অথবা ডোজ বুঝতে না পেরে ওষুধ খাওয়াই বাদ দেন, আবার ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করেন, যাতে সবার সময়ই নষ্ট হয়। এটা ডাক্তারের দক্ষতার প্রশ্ন নয়, সমস্যাটা প্রেসক্রিপশনের ভাষার, যা রোগীর বোঝার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়নি।

৭. কাগজ হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে অথবা আদৌ সংরক্ষিত না হলে কোনো ব্যাকআপ থাকে না

কাগজের রেকর্ড সম্পূর্ণভাবে বাস্তব সংরক্ষণের উপর নির্ভরশীল। বন্যা, আগুন, চেম্বার সরানো, অথবা বছরের পর বছর জমে থাকা সিস্টেমবিহীন ফাইল এসব কারণে রোগীর পুরোনো ইতিহাস হারিয়ে যেতে পারে। যেকোনো বেশিরভাগ চেম্বারের জন্য এটা আরও খারাপ, কারণ এক চেম্বারের রেকর্ড অন্য চেম্বারে সহজেই পাওয়া যায় না, আর একই রোগী বিভিন্ন দিন বিভিন্ন চেম্বারে গেলে সবার কাছে একটা একবদ্ধ চিত্র থাকে না।

এই সাতটি সমস্যার পেছনে প্রায় একই কারণ লুকিয়ে আছে: কাগজ তথ্য সংরক্ষণ, খুঁজা অথবা অন্যত্র পাঠানোর কাজ যতটা ডিজিটাল রেকর্ডের ​মত ভালোভাবে করতে পারে না। DocPad এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ওষুধ খুঁজার সুবিধা, অটোসেভ হওয়া টেমপ্লেট, আর ইংরেজি-বাংলা দুই ভাষাতেই প্রিন্ট হয়, যাতে ডাক্তার একবার লিখলেই রোগী সেটা পড়ে বুঝতে পারেন।

ডিজিটালে যাওয়া আসলে কেমন হয়

এক রাতেই কাগজ বাদ দিয়ে সব বদলে ফেলার কথা বলছি না। বেশিরভাগ ডাক্তারই প্রথমে এক বা দুই সপ্তাহ কাগজের সঙ্গে পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেন। প্রথমেই বড় পরিবর্তন দেখা যায় না। যা দেখা যায়, প্রেসক্রিপশন লিখতে আগের চেয়ে কম সময় লাগছে, ওষুধের নাম মনে করে টাইপ করার বদলে সাজেশন আসছে, আর রোগী অপেক্ষাকৃত এমন কিছু হাতে পেয়ে বেরোচ্ছেন যা চাইলেই পড়তে পারছেন।

ডাকপ্যাড বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই বনানো: স্মার্ট Rx এডিটরে C/C, O/E, অ্যাডভাইসের জন্য নির্দিষ্ট সেকশন, ৩০,০০০-এরও বেশি ওষুধের ডাটাবেজ যা ব্র্যান্ড বা জেনেরিক নামে খুঁজে পাওয়া যায়, আর ইংরেজি-বাংলা দুই ভাষাতেই প্রিন্ট, যাতে রোগী অনুমান করে বসে না ডাক্তার কী বোঝিয়েছেন। এক চেম্বারের এক ডাক্তার হোক অথবা বিভিন্ন সময়সূচিসহ একাধিক চেম্বার চালানো প্র্যাকটিস, দুইটেতেই এটা কাজ করে।

কাগজ যদি এখনো আপনার চেম্বারের কাজ ধীরগতি করে দেয়, তাহলে একবার দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন বাস্তবে কেমন কাজ করে। DocPad প্রাইসিং পাতা থেকে বর্তমান প্যাকেজ দেখে নিতে পারেন, অথবা সরাসরি ওয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে পারেন +৮১৯৫৩-৩৮৫৩২৮ নম্বরে, সুইচ করার আগে যেকোনো প্রশ্ন থাকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *